যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। পাল্টা শুল্কের প্রভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে ভিয়েতনাম তার অবস্থান আরও শক্ত করেছে। সম্প্রতি ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ কম অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজার নিজেই সংকুচিত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর।
শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে শুধু ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে। দেশটি এই সময়ে ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে প্রায় ২২ শতাংশ অংশীদারিত্ব ভিয়েতনামের দখলে।
অন্য দেশগুলোর রপ্তানিতে পতন: অন্যদিকে বড় চার রপ্তানিকারক দেশের রপ্তানি কমেছে—
- চীন: ১৭০ কোটি ডলার, কমেছে প্রায় ৫৩ শতাংশ
- বাংলাদেশ: ২০৪ কোটি ডলার, কমেছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ
- ইন্দোনেশিয়া: ১২২ কোটি ডলার, কমেছে ০.১৩ শতাংশ
- ভারত: ১১০ কোটি ডলার, কমেছে ২৭ শতাংশ
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে রয়েছে। মার্চ পর্যন্ত সেই অবস্থান বজায় ছিল। তবে বাজার অংশীদারিত্বের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন ১১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভিয়েতনামের তুলনায় অনেক কম।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, চীনের রপ্তানি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে গেছে। গত বছরের তুলনায় তাদের রপ্তানি অর্ধেকেরও বেশি কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ডলারে।
গত বছর ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের ১৫৭টি দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। পরে তা একাধিক ধাপে স্থগিত ও পরিবর্তন করা হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্ক হারও কয়েক দফা পরিবর্তিত হয়—প্রথমে ৩৭ শতাংশ, পরে ৩৫ শতাংশ এবং পরে সমঝোতার মাধ্যমে আরও কমিয়ে আনা হয়।
কেন কমছে রপ্তানি: রপ্তানিকারকদের মতে, শুধু শুল্ক নয়, আরও কয়েকটি কারণ বাজারে প্রভাব ফেলছে—
- বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি
- জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া
- উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি
- বিভিন্ন অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভিয়েতনাম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, চীন ও ভারতের অবস্থান দ্রুত নিচে নামছে। বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে অবস্থান ধরে রাখলেও প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বাজার ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
পাল্টা শুল্ক, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজার এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিযোগিতার নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ কতটা শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

