চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড–এর। জানুয়ারি থেকে মার্চ— এই তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি ৫২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঋণের সুদ থেকে আয় বাড়ায় কোম্পানিটির আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রথম তিন মাসে আইপিডিসির ঋণের সুদ থেকে আয় হয়েছে ২৪৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ কোটি টাকা বেশি। গত বছরের জানুয়ারি–মার্চে এ খাতে আয় ছিল ২২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঋণ বিতরণ ও সুদ আদায়ে প্রবৃদ্ধি কোম্পানির আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে আমানতের সুদ ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হারে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আমানতের বিপরীতে সুদ খরচ হয়েছে ১৮৪ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ১৮১ কোটি টাকা। ফলে সুদের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান কিছুটা বাড়ায় মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে সুদের আয় বাড়লেও সেই অনুপাতে নিট মুনাফা বাড়েনি। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে এ খাতে ৪৭ কোটি টাকা সংরক্ষণ করতে হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ২১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সঞ্চিতি ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক খাত বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। এজন্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে উচ্চ হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হচ্ছে। এতে পরিচালন আয় বাড়লেও চূড়ান্ত মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হয়।
তাদের মতে, আইপিডিসির ক্ষেত্রে সুদ আয় বৃদ্ধির ধারা ইতিবাচক হলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে ঋণের গুণগত মান উন্নয়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ কমানোর ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে আমানত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে মুনাফা আরও বাড়তে পারে।

