দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাট ও বস্ত্রশিল্প এক সময় শিল্পায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে এসব কারখানার বড় অংশই অচল অবস্থায় রয়েছে। মোট ৫০টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাট ও বস্ত্রকলের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৯টিতে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রয়েছে, বাকি অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা সীমিত কার্যক্রমে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত এসব মিল পরিচালনা করে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন। দুই সংস্থার অধীনে থাকা মোট ৫০টি মিলের মধ্যে দীর্ঘ লোকসান ও ব্যবস্থাপনা জটিলতার কারণে অনেকগুলোই বন্ধ হয়ে পড়ে।
বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইজারা বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফেরানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে এক যুগের বেশি সময় ধরে চলমান এই প্রক্রিয়া এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নির্বাচিত মিলগুলোর একটি অংশ বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়া হলেও কার্যকরভাবে উৎপাদনে ফিরতে পেরেছে মাত্র কয়েকটি। ইজারা দেওয়া মিলগুলোর মধ্যে চালু হওয়া ইউনিট সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। অনেক মিল ইজারা দেওয়া হলেও মেশিনারি স্থাপন, আধুনিকায়ন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে উৎপাদন শুরু হয়নি।
অন্যদিকে, কিছু প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার কারণে ইজারা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে বা চুক্তি বাতিল হয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত গতিতে শিল্প পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে লোকসান, পুরনো যন্ত্রপাতি, অব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ ঘাটতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত এই খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক কারখানার বিপুল জমি ও স্থাপনা অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় তা জাতীয় সম্পদের অপচয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো এসব শিল্প পুরোপুরি বন্ধ না করে বেসরকারি অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা। সেই লক্ষ্যে পিপিপি ও ইজারা মডেলে কিছু মিল চালুর চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে যেসব মিল চালু হয়েছে, সেখানে সীমিত হলেও কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী উৎপাদনও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পাটজাত পণ্য, জুতা, ব্যাগ, তাঁবু এবং অন্যান্য শিল্পপণ্য উৎপাদনে কিছু ইউনিট কাজ করছে।
শ্রমিক ও শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ইজারাভিত্তিক উদ্যোগ সফল হলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানাগুলো আবারও অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নীতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত এই শিল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা শুধু উৎপাদন নয়, কর্মসংস্থান ও শিল্প বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তাই সময়মতো কার্যকর পুনর্গঠন না হলে এই খাত আরও পিছিয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন তারা।

