দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, উদ্ভাবন, গবেষণা ও পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র এবং পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, টেকসইতা এখন আর কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং এটি শিল্পের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মৌলিক শর্ত।
আজ শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর লে মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বস্ত্র উদ্ভাবন বিনিময়’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। তাই শিল্পে শক্তি সাশ্রয়, পানি পুনঃব্যবহার, পুনঃচক্র উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিটি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে এই খাত বড় সাফল্য অর্জন করলেও রপ্তানি এখনো সীমিত কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। স্পোর্টসওয়্যার, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইলসহ উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্যে দ্রুত অগ্রসর না হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধানে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণা, নকশা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে টেক্সটাইল খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম পুঁজিতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এই খাত শিল্পায়ন ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ খাতের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানার ভবিষ্যৎ ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোনো যন্ত্রপাতি রেখে অকার্যকর কারখানায় নতুন করে কোনো অর্থ ব্যয় করা হবে না। বরং শিল্পের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত সমাধান নেওয়া হবে। কোথাও শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হবে, আবার কোথাও জন–বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা লিজের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি চামড়া, হালকা প্রকৌশল ও জাহাজ নির্মাণসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. জুলহাস উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন এনামুল হক খান, অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী আইউব নবী খান, মো. আব্দুল হামিদ এবং প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকৌশলী মো. শামসুজ্জামান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ড. মো. হাসিব উদ্দিন ও তারেক আমিন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার। পরে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ‘বস্ত্র উদ্ভাবন বিনিময়’ মঞ্চের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন।

