বাংলাদেশের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য সম্পর্কের চিত্রে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে, তার প্রায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে শুধু গুঁড়া দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানিতে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড-এ প্রায় ৯ কোটি ৯৭ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ শুধু দুগ্ধজাত পণ্য আমদানিতেই প্রায় ১৮ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। এর বড় অংশই তৈরি হচ্ছে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির কারণে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি হয়, যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আসে নিউজিল্যান্ড থেকে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ড থেকেও দুধ আমদানি করা হয়।
বিশ্ববাজারে গুঁড়া দুধ রপ্তানিতে নিউজিল্যান্ড শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটির উৎপাদিত দুগ্ধজাত পণ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই রপ্তানি হয়। শক্তিশালী মান নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার কারণে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের কাছে নিউজিল্যান্ড অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে বিশ্ববিখ্যাত দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান ফন্টেরা (ফন্টেরা) বাংলাদেশে আমদানিকৃত গুঁড়া দুধের বড় অংশ সরবরাহ করে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ব্র্যান্ডও নিউজিল্যান্ড থেকে দুধ আমদানি করে দেশের বাজারে সরবরাহ করছে।
আমদানিকারকরা বলছেন, দেশে তরল দুধের চাহিদার পাশাপাশি গুঁড়া দুধের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন গুঁড়া দুধ আমদানি করতে হয়।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়লেও চাহিদার বড় অংশ এখনো আমদানিনির্ভর। ফলে দুগ্ধখাতে আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং বাণিজ্য ঘাটতিও ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমাতে দেশীয় দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক খামার উন্নয়ন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

