চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বর্তমান ঠিকাদারকে আরও ছয় মাস দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে আগের তুলনায় একই পরিমাণ গ্যাস কিনতে এবার সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা।
গতকাল শনিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও সার আমদানির কয়েকটি প্রস্তাবও অনুমোদন পায়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ও এর ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেডের সঙ্গে করা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত একই শর্ত ও দর বহাল রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ছয় মাস দায়িত্বে রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বন্দর কার্যক্রম সচল রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
এদিকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবের আলোকে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২ লাখ আইইউ ও ১ লাখ আইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতেই দ্রুত এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জুন মাসে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৩০ কোটি ৮১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৩২ টাকা। আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০২৫ অনুসরণ করে এসব গ্যাস কেনা হবে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একটি কার্গো আমদানি করা হবে।
এর আগে গত ৭ মে অনুমোদিত তিন কার্গো গ্যাস আমদানিতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ১৮৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সেই হিসাবে একই পরিমাণ গ্যাস কিনতে এবার সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে দাম বেড়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া এবং ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

