ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত দুই সেতু মেঘনা ও গোমতীতেও। গত ৪৮ ঘণ্টায় এই দুই সেতু দিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার যানবাহন চলাচল করেছে। একই সময়ে টোল আদায় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য অঙ্ক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, মাইক্রোবাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ছোট যানবাহনের চলাচল বেশি হওয়ায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২৫ মে মেঘনা ও গোমতী সেতু দিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ওই দিন টোল বাবদ আদায় হয় প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। পরদিন ২৬ মে যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কমে প্রায় ৫৬ হাজারে দাঁড়ালেও ছোট যানবাহনের আধিক্যের কারণে টোল আদায় হয় প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের ছুটি ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোলপ্লাজায় ১২টি বুথ চালু রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে এই দুই সেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঈদ, দীর্ঘ ছুটি কিংবা উৎসবের সময় এই পথে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে টোল আদায়ের পরিমাণও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে টোল আদায়ে গতি বাড়ানো, লেন ব্যবস্থাপনা এবং সেতু এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

