দেশের অর্থনীতি এখনও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময়ের নানা সংকট ও দুর্বলতার কারণে অর্থনীতিকে আগে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে। এরপরই টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগোনো সম্ভব হবে। এজন্য জনগণের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের কাট্টলী দারুচ্ছালাম জামে মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে কাজ করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সাধারণত বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। তবে এবার পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, কিছু পণ্যের দাম বরং আগের তুলনায় কমেছে। সরকার বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে এবং মানুষ স্বস্তি পাবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি এমন এক অবস্থায় এসে পৌঁছেছিল, যেখানে পুনর্গঠনের জন্য সময় ও ধৈর্য প্রয়োজন। তার ভাষায়, বর্তমান সরকার একটি দুর্বল ও চাপের মুখে থাকা অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে কাজ চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয় বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার ধাপে ধাপে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, অপচয় কমানো এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের কাছে তাদের জবাবদিহি রয়েছে। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। এজন্য দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ফলে সরকারের জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, শুধু সময় চাওয়ার পাশাপাশি কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো না গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পুরোপুরি কমবে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথ আরও সুসংহত হবে।

