ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। নতুন মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে নতুন মাসে গ্রাহকদের সিলিন্ডার কিনতে আগের তুলনায় কম খরচ করতে হবে।
মঙ্গলবার জারি করা নতুন মূল্য ঘোষণায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শুধু গৃহস্থালি ব্যবহারের এলপিজিই নয়, পরিবহন খাতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটার অটোগ্যাসের মূল্য ২ টাকা ৫৭ পয়সা হ্রাস পেয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সায় নির্ধারিত হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পরপর দুই দফা দাম বাড়ানো হয়েছিল। প্রথমে ২ এপ্রিল ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৭ টাকা করা হয়। পরে ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বৃদ্ধি করে মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মোট ৫৯৯ টাকা দাম বেড়েছিল।
সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়ের ফলে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দর, আমদানি ব্যয়, ডলার বিনিময় হার এবং পরিবহন খরচের ওপর দেশের বাজারমূল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারেও দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাস সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইতিবাচক হলেও আগের কয়েক মাসে হওয়া বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় এ কমতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। তারপরও রান্নার জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা আর্থিক স্বস্তি এনে দেবে।
বর্তমানে দেশে পাইপলাইনের গ্যাস সুবিধার বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক পরিবার রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে সিএনজির বিকল্প হিসেবে অটোগ্যাস ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ফলে এলপিজি ও অটোগ্যাসের মূল্য পরিবর্তন সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে প্রভাব ফেলে। নতুন মূল্য ঘোষণার পর এখন বাজারে এর বাস্তবায়ন এবং খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর থাকবে ভোক্তাদের।

