বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণার মাত্র একদিনের মাথায় নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। লাইফলাইন এবং প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আগের বিদ্যুৎ মূল্য বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিইআরসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রিভিউ আবেদন জমা দেয় পিডিবি। বিষয়টি নিশ্চিত করে কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আবেদনটি দ্রুত পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবটি সরাসরি সাধারণ গ্রাহকের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এতে বিদ্যুতের মূল্য কমানোর বিষয় রয়েছে। ফলে এ ক্ষেত্রে গণশুনানির প্রয়োজন হবে না। কমিশন দ্রুত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করবে।
এর আগে বুধবার নতুন বিদ্যুৎ মূল্যহার ঘোষণা করে বিইআরসি। ওই ঘোষণায় লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে মাসিক ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিটের দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়।
নতুন মূল্যহার অনুযায়ী, ১ জুন থেকে সংশোধিত দাম কার্যকর হওয়ার কথা। তবে পিডিবির সাম্প্রতিক আবেদনের ফলে লাইফলাইন ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারের জন্য পুরোনো মূল্যহার ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, লাইফলাইন গ্রাহকরা সাধারণত নিম্ন আয়ের পরিবার। তাদের বিদ্যুৎ বিলের ওপর সামান্য বৃদ্ধি হলেও মাসিক ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে। একইভাবে প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের বড় অংশই সীমিত আয়ের মানুষ হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর জনমত ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পিডিবি পুনর্বিবেচনার পথে হাঁটছে। কারণ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরাসরি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে।
এখন বিইআরসির সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন লাখো আবাসিক গ্রাহক। কমিশন আবেদনটি গ্রহণ করলে লাইফলাইন এবং স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারগুলো বাড়তি ব্যয়ের চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। অন্যথায় ঘোষিত নতুন মূল্যহারই কার্যকর থাকবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, গ্রাহকস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কমিশন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ বিষয়টি শুধু বিদ্যুতের দাম নয়, বরং সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

