দেশের তৈরি পোশাক খাতে সাম্প্রতিক সময়ে রফতানি প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ পরিস্থিতির কারণ খতিয়ে দেখতে এবং উত্তরণের পথ নির্ধারণে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদ জরুরি বৈঠক করেছে। বৈঠকে খাতটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের কাছে একটি নীতিগত সহায়তা সনদ বা ‘চার্টার অব পলিসি সাপোর্টস’ উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বৈঠকে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয়ে দেখা দেওয়া নিম্নমুখী প্রবণতার পেছনের কারণ এবং তা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া এবং তা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য চুক্তি এবং অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের নীতিগত সুবিধা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের জন্য প্রস্তুত করা নীতিগত সহায়তা সনদে ভারতের পাশাপাশি ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ থাকবে। সেখানে বাংলাদেশের বিদ্যমান শক্তি, সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত ঘাটতির বিষয়গুলোও তুলে ধরা হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এলডিসি উত্তরণ ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার ফলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প একটি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার সুপারিশ সরকারকে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সনদের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং রফতানি বৃদ্ধির জন্য সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট পরামর্শ দেওয়া হবে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
সূত্র: বিজিএমইএ

