জাতীয় সংসদে অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছে, যেখানে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সমান সুযোগ পাবেন।
বুধবার সংসদের অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের সব অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
তিনি জানান, উন্নয়ন সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্য বঞ্চিত না হন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেওয়া উন্নয়ন সহায়তা দ্রুত ও সবার জন্য সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। তার ভাষায়, অতীতে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর সম্প্রসারণ এবং পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে লালদিয়া টার্মিনাল ও বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় করতে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিনিয়োগ দেশে আনতে সহায়তা করতে নির্দিষ্ট হারে কমিশন বা পরামর্শক ফি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
তিনি দাবি করেন, বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা ছিল মুনাফা প্রত্যাবাসনের জটিলতা। তা সমাধানে আইনগত ও নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, কৃষি খাতে সহায়তা, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালু এবং শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় ই-হেলথ কার্ড চালু করা, কৃষি ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। নিয়োগ, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে যোগ্যতা ও সততাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদে ঘোষিত এই নীতি ও প্রণোদনা কার্যক্রম দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তবে বাস্তবায়নের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

