প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ফ্ল্যাট ও আবাসন প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, এতে নতুন বিনিয়োগ কমবে, ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে এবং ইতোমধ্যে ধীরগতির আবাসন বাজার আরও সংকটে পড়তে পারে।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রিহ্যাবের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারা বলেন, আবাসন খাত বর্তমানে উচ্চ নির্মাণ ব্যয়, অর্থায়ন সংকট, ক্রেতা সংকট এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর আরোপ বাজারে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে জমি, ফ্ল্যাট ও ভবন ক্রয়-বিক্রয়ে নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সংগঠনটির মতে, অর্থনীতির বাইরে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত হলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে একই সঙ্গে সংগঠনটি বলছে, যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পে জমির মালিকদের অংশ হিসেবে পাওয়া ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই কর কার্যকর হলে জমির মালিক ও ডেভেলপারদের একটি বড় অংশ নতুন প্রকল্পে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
রিহ্যাবের নেতাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আবাসন প্রকল্পে জমির বিনিময়ে মালিকরা যে ফ্ল্যাট পান, তার বাজারমূল্যের ওপর কর আরোপ করা হলে অতিরিক্ত আর্থিক দায় তৈরি হবে। এই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত প্রকল্প ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফ্ল্যাটের মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আবাসন কেনা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সংগঠনটির মতে, শুধু কর নয়, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ওপর কর ও শুল্ক বৃদ্ধিও নির্মাণ ব্যয় বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে। নির্মাণ খরচ বেড়ে গেলে নতুন প্রকল্প গ্রহণের গতি কমতে পারে এবং বাজারে ফ্ল্যাটের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আবাসন শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম বহুমাত্রিক খাত। এটি সরাসরি ও পরোক্ষভাবে রড, সিমেন্ট, কাঁচ, সিরামিক, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, পরিবহন, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাসহ শতাধিক শিল্প ও সেবা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে আবাসন খাতে স্থবিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব কেবল নির্মাণ খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটতে পারে।
রিহ্যাব নেতারা বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার আগে আবাসন খাতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও শুল্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আবাসন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে কর কাঠামো আরও বাস্তবসম্মত ও সহায়ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় কমানো এবং নতুন কর আরোপের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের নগরায়ণ ও আবাসন চাহিদা ক্রমাগত বাড়লেও বিনিয়োগ ও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় করের বোঝা বাড়লে আবাসন খাতের প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোও চাপের মুখে পড়তে পারে।

