খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দক্ষ নেতৃত্ব, সমান সুযোগ এবং সমন্বিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল ও কার্যকর করা হবে।
গতকাল নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো: আতাউর রহমান খানের যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ পরিচয়পর্বে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিচয়পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নবনিযুক্ত সচিবের শক্তিশালী একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং পূর্বে এই মন্ত্রণালয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা দপ্তরের কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে। তিনি বলেন, সঠিক নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
মন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে অংশ নিতে এফটিএ টিমকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি নতুন দক্ষ জনবল যুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে আরও বড় ও দক্ষ টিম প্রয়োজন হবে। এজন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ দিতে হবে এবং কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো: আতাউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সক্ষমতা, চলমান চুক্তি, নীতি ও আন্তর্জাতিক সমঝোতা বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
সচিব বলেন, কৃষি, শিল্প, শ্রমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যেসব বিষয় যুক্ত রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর হতে হবে। পাশাপাশি তাদের কর্মদক্ষতা নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

