দেশে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালে ডিজিটাল লেনদেনের সংখ্যা ও মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থার ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘পেমেন্ট সিস্টেমস রিপোর্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, এক বছরে ডিজিটাল লেনদেনের সংখ্যা ৪৮২ কোটি ৭০ লাখ থেকে বেড়ে ৫৪৬ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে লেনদেনের পরিমাণ ৯০ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগে যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মূলত মোবাইল রিচার্জ বা ছোটখাটো পেমেন্টে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন গ্রাহকরা ইউটিলিটি বিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি এবং উচ্চমূল্যের ই-কমার্স কেনাকাটার মতো বড় অঙ্কের লেনদেনেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেন এখন আর পরীক্ষামূলক কোনো বিষয় নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। লেনদেনের সংখ্যা ও মূল্যের সমান হারে বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো এখন অধিক সংখ্যক এবং উচ্চমূল্যের উভয় ধরনের লেনদেন পরিচালনায় সক্ষম।
অন্যদিকে, ডিজিটাল নয় এমন লেনদেনের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ ধরনের লেনদেনের পরিমাণ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩৯ কোটি ৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব লেনদেনের মোট মূল্য ৭ শতাংশ কমে ২০৯ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর অর্থ হলো মানুষ এখনও প্রচলিত মাধ্যমে লেনদেন করছে, কিন্তু বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর ক্রমশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলে যাচ্ছে। ফলে অ-ডিজিটাল লেনদেনের সংখ্যা বাড়লেও প্রতিটি লেনদেনের গড় মূল্য কমছে।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে দেশে মোট লেনদেনের সংখ্যা ১৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৫ কোটি ৯০ লাখে পৌঁছেছে। তবে মোট লেনদেনের আর্থিক মূল্য সামান্য ১ শতাংশ কমে ৩১১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং এবং নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করছে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে আরও আধুনিক ও দক্ষ পেমেন্ট ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করছে।

