বাংলাদেশে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এবং ব্যবসা পরিচালনায় সহজ নীতি বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক রফতানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।
শিল্প নেতারা বলছেন, এটি আনুষ্ঠানিক কোনো নির্ধারিত লক্ষ্য নয়। তবে বৈশ্বিক বাজারে পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরায় এই সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে। তবে এই বড় অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে জ্বালানি সংকটকে। উদ্যোক্তাদের মতে, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান দেওয়া মন্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আমদানি–রফতানিতে সময়ক্ষেপণ কমাতে সরকারের সঙ্গে কাজ করবে বিজিএমইএ।
তার মতে, বাংলাদেশে অডিট বা নিরীক্ষা প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ সময় নেয়। এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই সময় আরও কমানো জরুরি।
তিনি আরও জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালুর জন্য সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই তহবিল থেকে সুবিধা পেতে বন্ধ থাকা উৎপাদন ইউনিটগুলোর তথ্য সরকারকে দিয়েছে বিজিএমইএ।
সভায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের কিছু বিতর্কিত ধারা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সদস্যরা। এসব ধারার কারণে অনেক কারখানা পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে সমস্যা সমাধানে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহও জানিয়েছে বিজিএমইএ নেতৃত্ব।

