দেশের রপ্তানি আয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে সম্ভাবনাময় মাত্র পাঁচ থেকে সাতটি খাতকে এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বর্তমান ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ভবিষ্যতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক কর্মশালা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। কর্মশালায় গবেষণার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত একটি বড় প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি অংশীজনদের মতামতও গ্রহণ করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং রপ্তানি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সম্ভাবনা:
মন্ত্রী বিশেষভাবে চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও পাটভিত্তিক শিল্পকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চামড়া ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিদ্যমান অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তর করা গেলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। এই কেন্দ্রগুলো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পাট খাত নিয়ে তিনি বলেন, শুধু কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুট ফ্যাব্রিক উৎপাদনে জোর দিলে আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর অংশীদারি গড়ে তুলতে হবে। উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে ফলাফল মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। তিনি সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।
তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উদ্যোগ:
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ চলছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শিল্পখাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
রপ্তানি খাতের পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে জাতীয় বাজেটের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন, নীতিগত সহায়তা ও প্রক্রিয়া সরলীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং প্রয়োজনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে যুক্ত করে প্রকল্পটি পরিচালনার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। আরও বক্তব্য দেন সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান ও হোসনা ফেরদৌস সুমি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, নীতিনির্ধারক ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

