ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতকে শক্তিশালী করলেই দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।
তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সিলেটে ২০০ একর এবং পাবনায় ২০০ একর জমিতে শিল্প পার্ক স্থাপন করবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ের বিদ্যমান শিল্প পার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: এসএমই খাতের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি তেল, সয়াবিন তেলসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলবে সরকার।
তিনি আরও জানান, একটি নতুন ব্যবসা শুরু করে যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেতে বর্তমানে ৩৫৫ দিন সময় লাগে। এই সময় কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য লাইসেন্স ব্যবস্থাও হয়রানিমুক্ত ও কাঠামোবদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনের ১১৩টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩৬টি প্রস্তাব আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২, জাতীয় এসএমই নীতিমালা ২০২৬ (খসড়া), জাতীয় শুল্কনীতি ২০২৩ এবং রপ্তানি নীতিমালা ২০২৪-২০২৭ এ এসএমই খাতের জন্য কর ছাড় ও প্রণোদনার বিভিন্ন সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম সভাপতি দৌলত আকতার মালা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উপমহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ আলম এবং সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

