বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড রাজস্ব আয়ের সাফল্যের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন একটি আধুনিক ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে।
প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো এখন এক ছাদের নিচে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১ জুলাই) নতুন সেন্টারের উদ্বোধনের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান জানান, নানা পরিচালনগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর রাজস্ব আয়, জাহাজ হ্যান্ডলিং, কনটেইনার পরিবহন এবং কার্গো পরিচালনায় নতুন রেকর্ড গড়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
একই সময়ে বন্দরে মোট ৪ হাজার ৩৩৬টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
চেয়ারম্যান বলেন, এই সাফল্যের পেছনে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টা কাজ করেছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।
তিনি আরও জানান, বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময় এখন শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে বন্দরে কার্গো পণ্য পড়ে থাকার সময় আরও কমিয়ে আনা এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
এ লক্ষ্য পূরণে বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করছে। এর ফলে জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর আগেই কাস্টমসের প্রয়োজনীয় নথি যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণ শুরু করা যাবে। এতে কনটেইনার ও কার্গো দ্রুত খালাসের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া বন্দরের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘সিপিএ স্কাই’ ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে কাস্টমস ও কার্গো ছাড়করণ প্রক্রিয়ায় আরও বিস্তৃত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।
চেয়ারম্যানের আশা, নতুন ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে করা বিনিয়োগ এক বছরের মধ্যেই উঠে আসবে। এই সেবাকেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে ৫ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ভবনকে কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশনে রূপান্তর করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রতি মাসে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়া যাবে।

