আমদানি বাণিজ্যে সুদের হার ওঠানামাজনিত ঝুঁকি কমাতে ফরোয়ার্ড রেট চুক্তি চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরবরাহকারী ও ক্রেতা ঋণের আওতায় ইউজেন্স আমদানি লেনদেনে এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।
আজ বৃহস্পতিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো এখন থেকে বিদেশি মুদ্রায় আমদানি ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে পারবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হার, বিশেষ করে এসওএফআর-এর ওঠানামাজনিত ঝুঁকি থেকে আমদানিকারকদের সুরক্ষা দেওয়া।
ফরোয়ার্ড রেট চুক্তি এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুদের হার আগাম নির্ধারণ করা হয়। এতে ভবিষ্যতে সুদের হার পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা থেকে আগাম সুরক্ষা পাওয়া যায়। অন্যদিকে ইউজেন্স আমদানি হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে পণ্য গ্রহণের পর নির্ধারিত সময় শেষে মূল্য পরিশোধ করা হয়।
এসওএফআর হলো মার্কিন ডলারে এক দিনের ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হার। উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়, কোনো আমদানিকারক ছয় মাসের জন্য বিদেশি ঋণ নিলে এসওএফআর-এর সঙ্গে ৩ শতাংশ যোগ হয়ে সুদের হার নির্ধারিত হয়। পরবর্তীতে এসওএফআর বাড়লে মোট সুদের হারও বেড়ে যায়। এই ওঠানামার ঝুঁকি কমাতেই ফরোয়ার্ড রেট চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নতুন ব্যবস্থায় এই চুক্তি শুধু ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যাবে। প্রকৃত আমদানি লেনদেনের সঙ্গে এটি সম্পৃক্ত থাকতে হবে। কোনো ধরনের জল্পনা বা অরক্ষিত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। ভবিষ্যতের জন্য নির্দিষ্ট সুদের হার আগাম নির্ধারণ করাই এই ব্যবস্থার মূল কাঠামো। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, চুক্তিকৃত হার এবং প্রচলিত মানদণ্ডভিত্তিক হারের পার্থক্যের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি সম্পন্ন হবে।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব চুক্তিজনিত ঝুঁকি একই দিনে সমান্তরাল লেনদেনের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে, যাতে ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে বাজারঝুঁকি না থাকে। মূল্য নির্ধারণে ব্যাংকের সর্বোচ্চ মার্জিন ১০ ভিত্তি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোট চুক্তির পরিমাণ ব্যাংকের গত ১২ মাসের গড় মাসিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ২৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চুক্তি কাঠামো অনুসরণ, দৈনিক বাজারমূল্যায়ন এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চুক্তি আগাম সমাপ্ত হলে তা প্রচলিত বাজারদরে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগের ফলে আমদানিকারকেরা সুদের হারজনিত অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা পাবেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে দেশে আর্থিক ডেরিভেটিভস বাজারের বিকাশেও এটি সহায়ক হতে পারে।

