২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হলেও তার সুফল এখনো সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির দাবি, সরকার রাজস্বে ছাড় দিলেও বাজারে চাল, ভোজ্যতেল, মসলা ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজেটে ধান, চাল, গম, আটা, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, বীজসহ মোট ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। আগে যেখানে বিভিন্ন পণ্যে ১ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত উৎসে কর ছিল, সেখানে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে।
ক্যাবের মতে, সরকারের লক্ষ্য ছিল কর কমানোর মাধ্যমে আমদানি ও সরবরাহ ব্যয় হ্রাস করা, যাতে শেষ পর্যন্ত ভোক্তারা কম দামে পণ্য কিনতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে বাজারে সেই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে মূল্য আরও বাড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সংগঠনটি জানায়, বাজেট ঘোষণার পর তারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল। তবে এখন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দাবি করছে, বাজারে থাকা পণ্য আগের উচ্চ শুল্কে আমদানি করা হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে দাম কমানো সম্ভব নয়। নতুন চালান এলে তখন করছাড়ের প্রভাব বাজারে দেখা যেতে পারে।
ক্যাবের অভিযোগ, একই যুক্তি সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পেয়েছে, সেগুলোর দাম তুলনামূলক দ্রুত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কর কমানো পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা পুরোনো মজুদের অজুহাত দেখিয়ে মূল্য কমাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে বাজারে দ্বৈত নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে করছাড়ের সুবিধা ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর ভূমিকা দুর্বল থাকায় বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
ক্যাবের মতে, বাজেটে আমদানি করা সব ধরনের মসলা ও খেজুরের ওপর ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রক শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। বরং দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামের মতো বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। একইভাবে খেজুরের বাজারেও করছাড়ের সুবিধা দৃশ্যমান নয়।
সংগঠনটির ভাষ্য, সরকার কর কমিয়ে রাজস্ব আয়ের একটি অংশ ছেড়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের স্বার্থে। কিন্তু যদি সেই সুবিধা ব্যবসায়ী পর্যায়েই আটকে যায় এবং ভোক্তা পর্যায়ে না পৌঁছায়, তাহলে বাজেটের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে না।
ক্যাব আরও মনে করে, বাজেট ঘোষণার পর সরকার করছাড়ের সুফল দ্রুত বাজারে প্রতিফলিত হবে বলে যে আশ্বাস দিয়েছিল, এখন পর্যন্ত তার বাস্তব চিত্র দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ঘোষিত জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্য কতটা অর্জিত হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটির মতে, করছাড়ের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করতে হলে বাজারে নিয়মিত নজরদারি, মূল্য পর্যবেক্ষণ এবং অযৌক্তিক দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় বাজেটে ঘোষিত কর-সুবিধার ইতিবাচক প্রভাব কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাবে না।

