রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুজ্জীবনে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগকে সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তাঁর মতে, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বেসরকারি খাতই সবচেয়ে দক্ষ এবং সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত বিনিয়োগকে সহায়তা করা, প্রতিযোগিতা করা নয়।
রোববার নিজের লিংকডইন পোস্টে আশিক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অলস বা কম ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় শিল্পসম্পদকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এতে একদিকে সরকারের আর্থিক চাপ কমবে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের গতি বাড়বে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধীনে ৪৪টি বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প ও সম্পদ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সম্পদ ইস্পাত, বস্ত্র, রাসায়নিক, চিনি, খাদ্য ও পাটসহ বিভিন্ন শিল্পখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং এগুলোর আওতায় রয়েছে ১০ হাজার একরের বেশি জমি।
বিডা চেয়ারম্যানের ভাষ্য, এসব শিল্পসম্পদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত। অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ, গ্যাস, সড়ক যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আগে থেকেই রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও শিল্পভিত্তিক সহায়ক পরিবেশ থাকায় বিনিয়োগকারীরা দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারবেন।
তিনি বলেন, এই সম্পদগুলোকে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ মডেলে বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘ সময় ব্যয় না করেই উদ্যোক্তারা বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহার করে দ্রুত শিল্প কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
আশিক চৌধুরী জানান, দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। কোনো কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান আগের উৎপাদন কার্যক্রমেই ফিরতে পারে। আবার কিছু সম্পদ নতুন ধরনের শিল্প স্থাপনে ব্যবহার করা হতে পারে, যা আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো, দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সমন্বিত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে বিনিয়োগ বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা না থাকে।
বিডা চেয়ারম্যান জানান, আগ্রহী দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের তালিকা, অবস্থান, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারবেন।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় শিল্পসম্পদ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা গেলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ—তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর।

