রাজধানীতে সিএনজিচালিত গাড়ির জ্বালানি সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। শহরের অধিকাংশ রিফুয়েলিং স্টেশন সারাদিন বন্ধ থাকছে, আর যে কয়েকটি খোলা থাকছে সেখানেও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে সামান্য পরিমাণ গ্যাস পেতেই চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। মাত্র ৬০ থেকে ১৬০ টাকার গ্যাস সংগ্রহ করতেই তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এর ফলে একদিকে চালকরা পড়ছেন আর্থিক সংকটে, অন্যদিকে সড়কে গাড়ির সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরাও।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডেমরা, বাড্ডা, তেজগাঁও, মালিবাগ ও মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ সারি ও চালকদের ক্ষোভ-হতাশার চিত্র চোখে পড়েছে।
চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো এক চালক জানান, ভোরে গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত গ্যাস পাননি, মিলতে আরও প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্যে, জ্বালানি খরচ ও দৈনিক চুক্তির টাকা মেটাতে গিয়ে এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরেক অটোরিকশাচালক জানান, বুধবার রাতে প্রায় তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছিলেন তিনি। তা যথেষ্ট না হওয়ায় একই পাম্পে আবার আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করে পেয়েছেন আরও ১২০ টাকার গ্যাস। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায়ও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হননি বলে জানান তিনি।
সিএনজি অটোরিকশা চালকদের অবস্থা আরও কঠিন। মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা গাড়ি চালালেই গ্যাস শেষ হয়ে যায়, আর তা পুনরায় ভরতে পাম্পে গিয়ে ব্যয় হচ্ছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। একজন চালকের ভাষায়, এত সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে যে সামান্য গ্যাস মেলে, তা দিয়ে একটি ভাড়া মারতেই ফুরিয়ে যায়। ফলে সারাদিনের আয় থেকে গাড়ির দৈনিক জমার টাকা তোলাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আরেকজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস সংগ্রহেই যদি পুরো সময় চলে যায়, তাহলে গাড়ি চালানোর সময়ই বা থাকবে কোথায়।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, বিমানবন্দর, মালিবাগ, মুগদা, মানিকনগর ও মগবাজার এলাকার অধিকাংশ পাম্পেই দিনের একটা বড় সময় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকছে। তেজগাঁও এলাকার একটি পাম্পের এক বিক্রয়কর্মী জানান, এলাকার সব পাম্পেই প্রেশার একেবারে কম, সকালে সামান্য সরবরাহ দেওয়া গেলেও এখন তা পুরোপুরি বন্ধ, বিকেলের দিকে হয়তো আবার সরবরাহ শুরু হতে পারে। মালিবাগের একটি স্টেশনের কর্মী জানান, প্রেশার এতটাই কম যে চালকদের অনুরোধেই ঝুঁকি নিয়ে সামান্য পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, রাতের দিকে চাপ কিছুটা বাড়ে। মেরুল বাড্ডার একটি পাম্পের কর্মীর ভাষ্যমতে, রাত ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের পর প্রেশার না থাকায় দিনের বেলা পাম্প বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায়। সড়কে রাইড শেয়ারিং সেবা ও সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বহুলাংশে কমে গেছে, যার ফলে অফিসগামী মানুষজনকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। পাশাপাশি পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অজুহাত দেখিয়ে অনেক চালকই যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

