চীনের বিশাল ভোক্তাবাজারে বাংলাদেশের ফল ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে অনুষ্ঠেয় ‘মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’-এ দ্বিতীয়বারের মতো সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। আগামীকাল ২১ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এই উৎসবকে চীনা বাজারে বাংলাদেশের ফলের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেকং-লানচান অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই ফল উৎসবে এবার বাংলাদেশি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। উৎসবে তারা বাংলাদেশের তাজা ও শুকনো ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শন করবে এবং চীনা আমদানিকারক, ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবে, কুনমিংয়ের টোংদে কুনমিং প্লাজায় আয়োজিত এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের ফল প্রদর্শনী, পণ্য বিক্রয়, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং ও বাজার অনুসন্ধানের সুযোগ থাকছে।
বাংলাদেশের এই চীনমুখী হওয়ার পেছনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও চীনের ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এই সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইউনানের নির্দিষ্ট এলাকায় ভাড়ামুক্ত বন্ডেড গুদাম, অফলাইন প্রদর্শনী স্থান এবং অনলাইন কমোডিটি প্ল্যাটফর্মে পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের মতো সুবিধাও রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনের মতো বড় বাজারে ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু পণ্যের উৎপাদন বাড়ালেই হয় না; বাজারে প্রবেশ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও দ্রুত শুল্কায়ন প্রক্রিয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন ফল চীনের বাজারে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশটির বিশাল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তাবাজার বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের জন্য বিরাট বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তাজা ফলের পাশাপাশি শুকনো ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে পারলে পণ্যের বহুমুখীকরণেও তা ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চীনে আম রপ্তানির অনুমোদন মিলেছে এবং কাঁঠাল, পেয়ারা রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা চলছে।
এর আগে গত বছর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়ে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরে। এবারের দ্বিতীয়বারের অংশগ্রহণকে তাই শুধু একটি মেলায় অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা; বরং চীনের বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের স্থায়ী অবস্থান তৈরির ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন তারা।

