রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বড় ধরনের আইনি জটের মধ্যে রয়েছে। জুলাই শেষে বিভিন্ন আদালতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ও সংশ্লিষ্ট ৩১৬টি মামলা বিচারাধীন ছিল, যেগুলোতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ২৮১৩ কোটি টাকার বেশি।
আইসিবির সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরকে হিসাবের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন শেষে আইসিবির বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩১৩টি। জুলাই মাসে নতুন করে ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার সঙ্গে জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬৯ লাখ টাকা। বিপরীতে একই সময়ে মাত্র ২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যেগুলোতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
ফলে জুলাই শেষে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬টিতে।
এসব মামলার মধ্যে রয়েছে রিট পিটিশন, আপিল, রিভিউ ও কনটেম্পট পিটিশন, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনালের মামলা, অর্থঋণ আদালতের মামলা, সার্টিফিকেট মামলা, দেউলিয়া মামলা এবং অন্যান্য দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা।
অর্থঋণ মামলায় জড়িত ১০২৭ কোটি টাকা
আর্থিক অঙ্কের হিসাবে সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে অর্থঋণ আদালতের মামলা। আইসিবির বিরুদ্ধে এমন ৯৯টি মামলা বিচারাধীন, যেখানে জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০২৭ কোটি টাকা।
এর পরেই রয়েছে রিট মামলা। মোট ৩৬টি রিট মামলায় জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা।
এ ছাড়া আইসিবির বিরুদ্ধে ৫টি দেউলিয়া মামলায় প্রায় ৩৫৬ কোটি টাকা এবং ১৬টি আপিল মামলায় প্রায় ৭০ কোটি ৪২ লাখ টাকা জড়িত রয়েছে।
একটি সার্টিফিকেট মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। তবে ওই মামলায় জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার সংখ্যায় এগিয়ে ‘অন্যান্য’
মামলার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে ‘অন্যান্য মামলা’ শ্রেণিতে। এ ধরনের ১৪৮টি মামলায় প্রায় ৮৪৮ কোটি টাকা জড়িত।
এই শ্রেণির মধ্যে নিম্ন আদালতে দায়ের করা সিআর মামলা, বিভিন্ন দেওয়ানি ও অন্যান্য মামলা, বিবিধ মামলা এবং সিভিল রিভিশনসহ নানা ধরনের মামলা রয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুলাই মাসে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩১৮টি হিসেবে রেকর্ড করা হলেও মাত্র দুটি মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় মাস শেষে বড় ধরনের মামলাজট রয়ে গেছে।
আইসিবির বিপুলসংখ্যক বিচারাধীন মামলা প্রতিষ্ঠানটির ওপর শুধু আইনি চাপই তৈরি করছে না, এর সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক দায় ও অনিশ্চয়তাও জড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন আদালতে চলমান এসব বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে আইসিবির আর্থিক ও প্রশাসনিক ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

