রাজধানীর তিনটি বড় বস্তিকে আধুনিক আবাসিক এলাকায় রূপান্তরের উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দারা ধাপে ধাপে উন্নত ও স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবেন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকেই চীনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটিতে বিনিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, রাজধানীর গুলশান এলাকা ও ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের আওতাধীন তিনটি বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন তৈরির একটি প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে প্রস্তাবটি চীনের কাছে পাঠানো হয়েছে। চীন প্রস্তাবটি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রকল্পের পুরো অর্থ একসঙ্গে বিনিয়োগ করা সম্ভব না হলে ধাপে ধাপে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে চীনা পক্ষ।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২০ তলা ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রতিটি আবাসিক ইউনিটের আয়তন হবে আনুমানিক ৬০০ থেকে ৬৫০ বর্গফুট। বর্তমানে যেসব মানুষ ওই বস্তিগুলোতে বসবাস করছেন, তাদের পর্যায়ক্রমে নতুন আবাসনে পুনর্বাসন করা হবে।
এই আবাসনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে—বাসিন্দাদের মাসিক ভাড়া দিতে হবে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবহারের খরচ তাদেরই বহন করতে হবে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর দীর্ঘদিনের বস্তি সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

