জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অস্বাভাবিক বিলিং কার্যক্রমে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন এলাকাবাসী। প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে প্রায় দুই দশক আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির নামেও এসেছে লাখ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই ধরনের হয়রানি বহুদিন ধরেই চলে আসছে, আর যথাযথ কাগজপত্র হাতে না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেককেই এসব ভিত্তিহীন বিল মিটিয়ে দিতে হচ্ছে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো অভিযোগ পেলে নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সরিষাবাড়ীর একটি মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহার করা হলেও চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির নামে প্রায় ৪৫ হাজার টাকার বিল পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, তাদের কোনো বকেয়া বিল নেই এবং তারা শুধু কার্ড মিটারের মাধ্যমেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তার ভাষ্যে, গত ১৫ বছরে তাদের কাছে কোনো নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল আসেনি, তাই বকেয়া থাকার প্রশ্নই ওঠে না—থাকলে নিশ্চয়ই তা আগেই জানানো হতো।
আরেকটি আরও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে চর বড়বাড়িয়া এলাকায়। প্রায় ২০ বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির নামে সেচ মেশিনের বিল হিসেবে এসেছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা, অথচ পরিবারের দাবি অনুযায়ী অনেক আগেই সব কাগজপত্র মিটিয়ে সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল। মৃত ব্যক্তির ছোট ভাই জানান, তার ভাই মারা যাওয়ার আগে-পরে মিলিয়ে বছরের পর বছর বিল আসেনি, অথচ প্রায় দুই দশক পর হঠাৎ আবার বিল হাজির হয়েছে। পরিবারের ভাষ্যে, কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার কথা বলা হলেও কোনো সমাধান আসেনি, উল্টো নতুন করে বিল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একই এলাকার আরেকজন বাসিন্দার অভিজ্ঞতাও প্রায় একই রকম। তার সেচ মেশিনের নামে এসেছে ২ লাখ ১২ হাজার টাকার বিল, অথচ ওই বিলে উল্লেখিত মিটার নম্বরটি তার নিজের নয়। তিনি জানান, তার নিজস্ব মিটার একাধিকবার সরেজমিনে পরীক্ষা করে কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে তার বিল সম্পূর্ণ পরিশোধিত এবং আলাদা কাগজপত্রও রয়েছে। কিন্তু যার নামে ভুল বিলটি তৈরি হয়েছে, দীর্ঘ খোঁজাখুঁজিতেও এলাকায় সেই ব্যক্তির কোনো হদিস মেলেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়ম নতুন কোনো ঘটনা নয় এবং এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আর্থিকভাবে দুর্বল গ্রাহকরা। তবে এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ামাত্র তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের কাছে কোনো অভিযোগ অমীমাংসিত অবস্থায় নেই এবং সমাধান না পাওয়ার মতো কোনো অভিযোগও তাদের নজরে আসেনি।
উল্লেখ্য, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। এত বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের মধ্যে বারবার এমন ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন উঠছে সংস্থাটির বিলিং ব্যবস্থাপনা ও তদারকি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক গ্রাহক তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ ও নিয়মিত মিটার যাচাই ছাড়া এ ধরনের ভোগান্তি বন্ধ করা কঠিন হবে।

