বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বাড়াতে এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন এগ্রিমেন্ট (আইপিপিএ)’ নামের এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী পর্বে। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং হংকং সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নবিষয়ক সেক্রেটারি আলজের্নন ইএই।
এই চুক্তি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? সহজ ভাষায় বললে, এর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসা হংকংয়ের বিনিয়োগকারীরা আগের চেয়ে বেশি সুরক্ষা পাবেন। আর সেই সুরক্ষা পেলে স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের সরকারই একে অপরের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ন্যায্য, সমান ও বৈষম্যহীন আচরণ করবে। কেউ যদি কারও বিনিয়োগ বাজেয়াপ্ত করে, তাহলে সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিনিয়োগ ও সেই থেকে অর্জিত মুনাফা স্বাধীনভাবে দেশের বাইরে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।
শুধু তাই নয়, বিনিয়োগ নিয়ে কোনো বিরোধ তৈরি হলে তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নিয়মে মধ্যস্থতা বা আরবিট্রেশনের মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। এই চুক্তির মেয়াদ হবে ১০ বছর, এবং স্বাক্ষরের ৩ বছর পর উভয় পক্ষ চুক্তিতে এমেন্ডমেন্ট আনার সুযোগ পাবে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হতে দুই দেশের নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
বর্তমানে হংকং বাংলাদেশের সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগ উৎস। গত পাঁচ বছরে হংকং থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেয়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই এসেছে ১২২ মিলিয়ন ডলার। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। হংকং সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী Algernon Yau বলেছেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উৎপাদনশক্তিশালী ও জনবহুল দেশ, যা হংকংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার।
বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তির অর্থনৈতিক তাৎপর্য অপরিসীম। শুধু বিনিয়োগ বাড়লেই হবে না, এর মাধ্যমে প্রযুক্তি ও জ্ঞান ট্রান্সফার বাড়বে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আরও একটি বড় সুবিধা হলো, বাংলাদেশের বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রেও এই চুক্তি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। হংকংয়ের মতো একটি বড় অর্থনীতির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।

