অনলাইনে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা বাড়ছে দ্রুতগতিতে, কিন্তু সেইসঙ্গে বাড়ছে কর ফাঁকির ঘটনাও। ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে ধরা পড়েছে আলফা ই শপ নামের একটি অনলাইনভিত্তিক খুচরা প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী-১১ ও মিরপুর-১২-এ অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির দুটি শোরুমে একযোগে অভিযান চালায় এনবিআরের দুটি টিম। সেখানে উদ্ধার করা বাণিজ্যিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রায় ২ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
আলফা ই শপ মূলত উচ্চমানের ব্র্যান্ডেড ফ্যান, আলোকসজ্জার পণ্য, ঝাড়বাতি, ইলেকট্রনিক্স, এয়ার কন্ডিশনার ও টেলিভিশন আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে অনলাইন ও শারীরিক আউটলেটের মাধ্যমে বিক্রি করে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ইন্টেরিয়র ডিজাইন টিম রয়েছে, যারা অফিস ও আবাসিক ভবনের পূর্ণাঙ্গ ইন্টেরিয়র ডিজাইন সেবা দিয়ে থাকে। ব্যবসার প্রসারে তারা ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালায় এবং পোশাক ব্র্যান্ডের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়।
আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ফাঁকি ধরা পড়ার পর প্রতিষ্ঠানটি মৌখিকভাবে ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট পরিশোধে সম্মত হয়েছে। তবে নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে এনবিআর আরও আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। ভ্যাট ফাঁকির এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি ইঙ্গিত দেয়, অনলাইন কমার্স খাতে কর ফাঁকি কতটা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এনবিআরের গবেষণা দল সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তদন্তের আওতায় এনেছে।
প্রশ্ন হলো, অনলাইন ব্যবসায়ীরা কীভাবে কর ফাঁকি দিচ্ছেন? আলফা ই শপের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা কর্পোরেট বিক্রয়, শোরুম বিক্রয়, বনানী অনলাইন শোরুম, অনলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে বিক্রয়, ডিলার বিক্রয় এবং নিজেদের ওয়েবসাইট; এসব মিলিয়ে একাধিক চ্যানেলে পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু বিক্রির সব খাতেই কি ঠিকমতো ভ্যাট জমা দেওয়া হয়েছে? সেটাই এখন তদন্তে বেরিয়ে আসছে। এনবিআরের এই অভিযান ই-কমার্স খাতে কর ফাঁকি রোধে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে।
দেশে অনলাইন কমার্সের দ্রুত প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভ্যাট ফাঁকির ঘটনা। সম্প্রতি এনবিআর ঘোষণা করেছে, তারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন টাকা বা ৯৯০ বিলিয়ন টাকা অতিরিক্ত ভ্যাট রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে, যার মূল লক্ষ্যই কর ফাঁকি রোধ করা। ভ্যাট ফাঁকি শুধু রাজস্ব কমায় না, সৎ ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতাও ক্ষুণ্ণ করে। আলফা ই শপের ঘটনা প্রমাণ করে, কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা এখন আর শুধু প্রথাগত ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নেই, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তা ছড়িয়ে পড়েছে।

