মিয়ানমার হয়ে চীনের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় পণ্যবাহী ট্রাক চীনের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে প্রস্তাবিত সড়ক যোগাযোগ চালু হলে শুধু চীনের সঙ্গে নয়, মিয়ানমারের সঙ্গেও বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে সিলেটে একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে স্থলপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মাঝখানে মিয়ানমারের অবস্থান। ফলে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে তিন দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর চীনের ইউনান প্রদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক যোগাযোগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ পথে পণ্য পরিবহনে প্রায় ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে বলে তখনও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে করিডরটির নির্মাণ, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের চেয়ে বেশি। এর অন্যতম কারণ, রপ্তানিমুখী শিল্পের অনেক কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি পণ্য হিসেবে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের বাণিজ্য কাঠামো রয়েছে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের বাইরে জাহাজ নির্মাণ, নন-লেদার পণ্য ও পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এসব খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা গেলে নতুন বাজার তৈরি এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এখনো নতুন মজুরি চূড়ান্ত করা হয়নি। এ জন্য একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দ্রুত আলোচনা শেষ করে জানুয়ারি থেকে নতুন হারে মজুরি দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমদানি ও রপ্তানিসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন। ব্যবসা-বাণিজ্য অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না। কেউ ব্যক্তিস্বার্থ বা অসৎ উদ্দেশ্যে অস্থিরতা তৈরিতে ইন্ধন দিলে তা খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।
দেশের স্বার্থে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

