রমজানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভোগ্যপণ্যের আমদানি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। ফল, ডাল, ভোজ্য তেল, মসলা—সব ক্ষেত্রেই এবার আমদানির গতি গত বছরের তুলনায় অনেক ভালো। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এখনও অনেকে এলসি খুলছেন। তাই আগামী তিন মাসও রমজানকেন্দ্রিক পণ্য আসতে থাকবে।
এসব পণ্যের বড় বাজার খাতুনগঞ্জে এখন দামের চাপও কিছুটা কমেছে। সরবরাহ স্বস্তিদায়ক রাখতে এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে সহায়তার জন্য রমজান পর্যন্ত বন্দরের বাড়তি মাশুল স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত রমজানে এলসি খোলার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ মার্জিন বাধ্যতামূলক থাকায় অনেকে আমদানিতে এগোতে পারেননি। এবার বাংলাদেশ ব্যাংক ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে—চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর—নগদ মার্জিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে আসা, ডলার সংকট না থাকা এবং ব্যাংকের সহযোগিতা। ফলে বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরাও এবার আমদানিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সেপ্টেম্বর–অক্টোবর থেকেই রমজান প্রস্তুতির পণ্য খালাস শুরু হয়েছে; এখনও নিয়মিত এলসি খোলা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর—এই দুই মাসে রমজানকেন্দ্রিক মোট ৫ লাখ ৩০ হাজার টনেরও বেশি ভোগ্যপণ্য এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ হাজার টন বেশি।
বিশেষ করে কিছু পণ্যের আমদানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে—
-
আপেল, কমলা, নাশপাতি, আঙুর
-
খেজুর, ছোলা
-
সয়াবিন
-
এলাচ, দারুচিনি, জিরা, গোলমরিচ, আদা
শুধু আপেলই এসেছে ২৪ হাজার টনের মতো, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার টন বেশি। সয়াবিনের আমদানি বেড়েছে ৪৪ হাজার টনের মতো। আদাও এসেছে গতবারের তুলনায় ৫ হাজার টনের বেশি।
এছাড়া আলুবোখারা, মসুর ডাল, মটর ডাল, সরিষা, লবঙ্গ, কিশমিশ, রসুন ও হলুদ—এসব পণ্যেরও আমদানির পরিমাণ স্বস্তিকর।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন,
“এবার সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। তাই সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা এলসি খুলে পণ্য আনতে পারছেন। খেজুর, ছোলা, সয়াবিনের বাজার এখনো নিম্নমুখী। রমজানে বড় কোনো ঘাটতি হবে না।”
তিনি অনুরোধ করেন, রমজান পর্যন্ত বন্দরের বর্ধিত মাশুল স্থগিত রাখা হোক, তাতে সাধারণ মানুষ কম দামে পণ্য কিনতে পারবে।
চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন,
“সারা বছরই কখনো পেঁয়াজ, কখনো অন্য পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। ১০০ টাকার নিচে পেঁয়াজ পাওয়া যায় না। বাজারে একটা নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার।”
তিনি সরকারের কাছে ভোগ্যপণ্যের দাম নির্ধারণ ও কঠোর বাজার তদারকির দাবি জানান।
ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন,
“আমদানি ভালো, মজুত ভালো। অনেক পণ্যে শুল্কও কমেছে। বন্দরের বাড়তি শুল্ক স্থগিত। এখন মূল প্রশ্ন—ব্যবসায়ীরা সরবরাহ লাইন ঠিক রাখবে কি না। যদি ঠিক থাকে, রমজানে দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি বলেন, নির্বাচনের ব্যস্ততার মাঝেও জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংস্থাগুলো বাজার নজরদারি জোরদার রাখলেই ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন।

