ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইচ্ছেমতো পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যা ব্যবসার পরিবেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর মহাসচিব রিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ব্যবসায়ীরা সৎভাবে ব্যবসা করতে চান, কিন্তু ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা তাদের নিরুৎসাহিত করছে। তার ভাষায়, “আমরা ব্যবসা করতে এসেছি, চুরি করতে নয়”—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি অসন্তোষ তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আইন থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা নিজস্ব ব্যাখ্যায় আইন প্রয়োগ করছেন, ফলে ব্যবসায়ীরা অপ্রয়োজনীয় চাপ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, ভ্যাট অডিট নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে অধিকাংশ ব্যবসায়ীকে একযোগে অডিটের আওতায় আনা হচ্ছে, যা তারা অস্বাভাবিক ও বৈষম্যমূলক বলে মনে করছেন। তাদের মতে, অডিট প্রক্রিয়া সাধারণত সীমিত পরিসরে হওয়া উচিত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় সবাইকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এছাড়া কয়েক বছর আগের হিসাবপত্র চাওয়ার বিষয়েও আপত্তি তোলা হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, মহামারির সময় কার্যক্রম ব্যাহত থাকায় অনেকের পক্ষে পুরোনো নথি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এখন সেই সময়ের হিসাব চাওয়ায় বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এ ধরনের পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে এবং অনেকেই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কেউ কেউ বিনিয়োগ কমানো বা ব্যবসা বন্ধের কথাও ভাবছেন।
এদিকে আসন্ন বাজেট সামনে রেখে গাড়ি খাতে কিছু নীতিগত পরিবর্তনের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর কর কমানো, গণপরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে বাজারে ইতিবাচক গতি আসবে, মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার বিস্তারেও সহায়ক হবে।

