শীতের আবহ নামতেই বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এতে অনেক সবজির দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে—ক্রেতাদেরও কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। তবে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মুরগি আর পেঁয়াজের বাজারে। সবজিতে স্বস্তি মিললেও হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে মুরগির দাম, আর পেঁয়াজ এখনো উচ্চমূল্যের ঘোর কাটাতে পারছে না।
গত সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে—সবজি সস্তা হচ্ছে, পেঁয়াজ কমছে খুব ধীরে, আর মুরগির দামে আবারও চাপ দেখা দিচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে পুরোনো পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না। আমদানি শুরু হলেও এর প্রভাব এখনো খুচরা বাজারে দামের ওপর পড়ে না। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে, তবে পরিমাণ খুব কম।
পাতাসহ তাজা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। দেশি রসুন ১২০–১৩০ টাকা, বড় রসুন ১৬০ টাকা আর আদা মিলছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায়।
সবজির দাম কমায় খুশি বিক্রেতা–ক্রেতা দু’পক্ষই। সরবরাহ বাড়ায় অনেক সবজির দাম আগের চেয়ে কমেছে।
সবজি বিক্রেতা রাজমিয়া বলেন, “শীতের সবজি আসায় দাম কমছে, বিক্রিও বাড়ছে।”
-
লম্বা বেগুনের দাম ৮০–১০০ টাকা থেকে নেমে এখন ৭০–৮০ টাকা
-
গোল বেগুন ১২০ টাকা থেকে কমে ৫০–৬০ টাকা
-
সবুজ শিম ৮০ টাকা থেকে ৫০ টাকায়
-
রঙিন শিম ১০০ টাকা থেকে ৭০–৮০ টাকায়
মাঝারি ফুলকপি এখন ৪০–৪৫ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫০–৬০। বাঁধাকপি নেমে এসেছে ৩০–৩৫ টাকায়। টমেটো ১২০ টাকা থেকে কমে এখন ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা কেজিপ্রতি ৫০ টাকা। ছোট আলুর দাম ৩০–৩৫ এবং কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা কেজি।
মৌসুমি শাকও তুলনামূলক সস্তা। লালশাক ১৫ টাকা, পালংশাক ২০ টাকা, সরিষাশাক ২০–৩০ টাকা এবং কলমিশাক ২০ টাকা আঁটি। তবে মৌসুম না হওয়ায় পুঁইশাকের দাম এখনো ৪০–৫০ টাকা।
যদিও কয়েক সপ্তাহ ডিম–মুরগির বাজার স্থিতিশীল ছিল, এখন ফের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
ফার্মের ডিম তিন-চার দিন ধরেই ১১৫–১২০ টাকায় বিক্রি হলেও পাইকারি দামে পরিবর্তন হওয়ায় ডজনপ্রতি মূল্য আবার ১৩০ টাকায় উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা।
ব্রয়লার মুরগি এখনো তুলনামূলক স্থিতিশীল—প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়।
তবে সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে—আগে ২৭০ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়।
সরকারের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসায়ীরা আগে সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ৯ টাকা বাড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে সরকারিভাবে দাম সমন্বয় করা হয়—প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৫ টাকা। খোলা সয়াবিন এখন লিটারপ্রতি ১৭৬ টাকা।
নতুন এই মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
গত রবিবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে—বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনার ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বিবেচনায় এনে এ সমন্বয় করা হয়েছে।

