বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী মাসে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। একইভাবে, জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত হবে।
গতকাল সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন এই তথ্য জানান। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাপানের সঙ্গে এই ইপিএ বাংলাদেশের প্রথম কোনো উন্নত দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তি। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করবে। অন্যদিকে, জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত করবে। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “তীব্র দর-কষাকষির মাধ্যমে আমরা জাপানের সঙ্গে ইপিএ খসড়া চূড়ান্ত করেছি। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে আলোচনাও হয়েছে। আগামী মাসে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এতে উভয় দেশের বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এটি বাংলাদেশের জন্য বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে প্রথম অর্থনৈতিক চুক্তি।”
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “২০২৪ সালের শেষে আমরা চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করি। আট দফা বৈঠকের পর চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে।”
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “এ ধরনের অর্থনৈতিক চুক্তি আমরা আগে কখনো করিনি। তবে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা এটি পেরেছি। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য ভালো চুক্তি।”
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “জাপানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে এখানকার বিনিয়োগ মাত্র ৫০০ মিলিয়ন ডলার, যা খুবই কম। আগে বিনিয়োগ চাওয়ার চেষ্টা হলেও কোনো স্ট্রাকচার না থাকায় বাধা সৃষ্টি হত। এখন নতুন চুক্তির মাধ্যমে লজিস্টিক, ইলেকট্রনিক্স, আইটি ও অটোমোবাইল খাতে বড় বিনিয়োগ আসবে। এতে প্রযুক্তি স্থানান্তরও ত্বরান্বিত হবে।” চুক্তি উভয় দেশের উপদেষ্টা পরিষদ ও আইনগত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর স্বাক্ষরিত হবে।
অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ হলো দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য এলাকা বা এফটিএ তৈরির পরিকল্পনা। এতে শুল্ক, আমদানি কোটা ও অন্যান্য বাণিজ্য বাধা কমানো হয় এবং পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্য বাড়ানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে জাপান এগিয়ে। বাংলাদেশের রপ্তানির বড় অংশ জাপানে আসে পোশাক খাত থেকে। প্রতি বছর গড়ে ১৫০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। বিপরীতে জাপান থেকে আমদানি হয় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের পণ্য, যার মধ্যে রয়েছে জাহাজ, লোহা, ইস্পাত, গাড়ি, শিল্প যন্ত্রপাতি ও ফটোগ্রাফি যন্ত্রপাতি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। চীনে বিভিন্ন খাতে জাপানের বড় বিনিয়োগের কারণে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে দেশটি। জাপান এখন তাদের কারখানা চীন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশটির জন্য বড় সুবিধা হবে।

