দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলায় কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মালিক পক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার পর পারস্পরিক সমঝোতা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে শ্রমিকদের উত্থাপিত সব দাবি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে শ্রমিকদের বিদ্যমান প্রথানুসারে স্বাভাবিক আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টার মজুরির ওপর ২৬ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। এটি শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান দাবি ছিল।
এর আগে মোংলা বন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা তাদের শ্রমিক কর্মচারী সংঘের (রেজি নং খুলনা-২১৪৩) মাধ্যমে কর্মঘণ্টা, মজুরি বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা, শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের সুবিধা, বীমা ও চিকিৎসাসহ মোট ১৮টি যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করে আসছিলেন।
সভায় উত্থাপিত ১৮ দফা দাবি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে সব দাবির নিষ্পত্তি করা হয়। মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের যাতায়াত বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসরত শ্রমিকদের কিয়ারা লঞ্চঘাট থেকে কর্মস্থলে ডিউটি পালনের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে যাত্রা শুরু এবং ডিউটি শেষে নিরাপদে বাসস্থানে ফেরত পৌঁছানো পর্যন্ত সময়কে কর্মঘণ্টার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে ডিউটি শেষে শ্রমিকদের দ্রুত ও নিরাপদে কিয়ারা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা মালিক পক্ষ গ্রহণ করবে। অবশিষ্ট ১৬টি দাবি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হয়।
সভায় মালিক পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন ও সেক্রেটারি জুলফিকার আলী। শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন মো. আলাউদ্দিন ও আলী হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা। এ ছাড়া মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।
বৈঠক শেষে মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন এবং শ্রমিক পক্ষের নেতারা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন ও কার্যক্রমের গতি বাড়াতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

