বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্কহার (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে এ বিষয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির তারিখ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেই দিনই চুক্তি সইয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি এগোচ্ছে।
মাহবুবুর রহমান জানান, চুক্তির একটি খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “৯ ফেব্রুয়ারি আমরা ডেট পেয়েছি। এই চুক্তির খসড়া এবং ওই তারিখেই সই করার অনুমোদন চেয়ে আমরা সামারি পাঠিয়েছি। অনুমোদন এলে পরবর্তী ধাপে গিয়ে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।”
বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ রয়েছে বলে জানান বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, এই হার শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, অন্যান্য অনেক দেশের ক্ষেত্রেও একই রকম। আবার কিছু দেশের ওপর এর চেয়েও বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাণিজ্য সচিবের ভাষায়, “আমরা আশা করছি— হয়তো শুল্কহার আরও কিছুটা কমতে পারে। সে ধরনের একটা ধারণা আছে। তবে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না, কারণ বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।”
তিনি আরও জানান, চুক্তির কাঠামো প্রস্তুত থাকলেও চূড়ান্ত শুল্কহার কত হবে, তা ৯ ফেব্রুয়ারির আগে বলা সম্ভব নয়। আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই শেষ সিদ্ধান্ত আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন গতি আসতে পারে। বিশেষ করে রপ্তানিনির্ভর খাতগুলোর জন্য শুল্কহার কমা বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বাণিজ্য কূটনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটির দিকেই এখন তাকিয়ে আছে রপ্তানিকারক ও নীতিনির্ধারক মহল।

