যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাণিজ্য শুল্ক আলোচনা নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক থেকে ২–৩ শতাংশ কমতে পারে—এমন সম্ভাবনা সামনে রেখে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চুক্তির আওতায় একটি নির্ধারিত শুল্কহার স্থির করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুল্ক কিছুটা কমতে পারে, তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। সবকিছু নির্ভর করছে মার্কিন প্রশাসন, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।
গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, যা পরে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনার পর গত বছরের ৩১ জুলাই সেই শুল্ক আরও কমে ২০ শতাংশে নেমে আসে। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, মার্কিন পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি এবং বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এছাড়া জ্বালানি, কৃষিপণ্য—বিশেষ করে তুলা ও গম আমদানি বাড়ানো এবং মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করেছে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারে। আগের দুই বছরেও এই ঘাটতি প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ছিল।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ বেশি।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী শুল্ক কমার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “২০ শতাংশের মধ্যেই শুল্ক থাকবে বলে আমাদের শক্ত আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন যেটা আছে, তার চেয়ে ভালো হবে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে চূড়ান্ত অগ্রগতির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি মনোযোগ প্রয়োজন।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, “৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হবে। শুল্ক কিছুটা কমতে পারে—এমন ধারণা আছে, তবে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল শুল্কহার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। তবে কতটা কমবে, তা চুক্তি সইয়ের আগে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

