ভারতের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে নতুন বার্তা দিল দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুতা ও তুলা–সংক্রান্ত বাণিজ্যে ভারতও বাংলাদেশের মতোই বিশেষ সুবিধা পাবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি সই হলে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা মিলবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল এনে দেশে প্রক্রিয়াজাত করে পোশাক তৈরি করে ফের সেই বাজারেই রপ্তানি করলে কোনো পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না।
এই পদক্ষেপের লক্ষ্য স্পষ্ট। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারতের পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্ত করা।
সম্প্রতি লোকসভায় এই চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে ভালো সুবিধা পেয়েছে। এর জবাবে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, এমন দাবি সঠিক নয়।
তিনি বলেন, সংসদে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল কিনে প্রক্রিয়াজাত করে কাপড় তৈরি করে রপ্তানি করলে কোনো রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ দিতে হবে না। বর্তমানে চুক্তির কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানা যাবে।
গয়াল আরও বলেন, বৃহত্তর এই চুক্তিতে ভারতের কৃষি খাতের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশের উৎপাদিত প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। এতে কৃষকদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকবে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাকার জন্য শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দেয়। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হবে। তবে কেবল মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলবে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ভারতীয় কোম্পানি যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুতা ও তুলা আমদানি করে পোশাক তৈরি করে তা আবার আমেরিকায় রপ্তানি করে, তাহলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের মতো তারাও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের চুক্তিতে যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, ভারতের চুক্তিতেও একই কাঠামো থাকবে। এ ব্যবস্থার কারণে দেশের তুলা চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
গয়ালের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদন খুব সীমিত। তাদের রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ৫ মিলিয়ন ডলার। সেখানে ভারত ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে।
ভারতের টেক্সটাইল খাতে আগে আশঙ্কা ছিল, সংশোধিত শুল্ক কাঠামোর কারণে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশ বাড়তি সুবিধা পেয়ে যেতে পারে। নতুন এই ব্যাখ্যার পর সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

