যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল করেছে। এর পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা। তবে একই সঙ্গে তারা উদ্বেগও জানিয়েছেন। ঘন ঘন শুল্ক হার পরিবর্তনের কারণে বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তারা বলছেন।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান গত রাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-কে বলেন, ট্রাম্পের আগের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত বর্তমান বাণিজ্য চুক্তিও বাতিল হয়ে যাবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রাতে বিশ্বের সব দেশের ওপর ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নতুন ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের প্রতিযোগিতা ২০২৫ সালের এপ্রিলের আগের অবস্থার মতোই থাকবে।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুল্কের হার কমলে মার্কিন আমদানিকারকরা কম খরচে পোশাক আনতে পারবেন। এতে দেশটির খুচরা বাজারে তৈরি পোশাকের দাম কমবে। সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের রপ্তানিতে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাবু বলেন, ২০ শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ তুলে দিয়ে সবার জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হলে তা মন্দের ভালো হবে। এতে আমেরিকান আমদানিকারকরা কম শুল্কে পণ্য আনতে পারবে। খুচরা বাজারেও কম দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে। ফলে চাহিদা বাড়বে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়বে।
তবে শুল্ক নীতির অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ঘন ঘন শুল্ক পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। কখন কত শুল্ক হবে তা নিশ্চিত নয়। ফলে তারা বড় ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তবে খুচরা বিক্রেতারা সরবরাহ ঠিক রাখতে অল্প পরিমাণে হলেও আমদানি চালিয়ে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে এই অনিশ্চয়তা রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
দেশের শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হা-মীম গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, পাল্টা শুল্ক বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এতে রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাতেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ আগের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ছিল ১৯ শতাংশ।
তবে এ কে আজাদ মনে করেন, এই নতুন শুল্ক সিদ্ধান্তও শেষ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তার মতে, মার্কিন নাগরিকরা ১০ শতাংশ শুল্ক বাতিলের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। কারণ এ ধরনের শুল্ক আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিদ্যমান বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

