জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তার এবং তার স্বামীর আয়কর সংক্রান্ত নথি জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি বিশেষ আদালত এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম। আবেদনে বলা হয়, সাবেক এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জনের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে এসব আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী দুজনই আয়করদাতা হলেও তাদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রকৃত আয় ও সম্পদের হিসাব যাচাই করতে মূল আয়কর নথি জব্দ করা প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জব্দের নির্দেশ পাওয়া নথির মধ্যে আয়কর রিটার্নের স্থায়ী অংশ ছাড়াও বিভিন্ন সম্পদ ও লেনদেনসংক্রান্ত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্পদের উৎস, আয় ও ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে যেসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত, এই তদন্ত সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তবে এ বিষয়ে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুদক কর্মকর্তারাও তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়কর নথি জব্দের মতো পদক্ষেপ সাধারণত প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ইঙ্গিত পাওয়ার পর নেওয়া হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

