বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহারে সরকারের উদ্যোগ আরও জোরদার হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া প্রায় ২৩ হাজার ৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আইনি কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গত রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি ও সেলিনা সুলতানার পৃথক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আইনমন্ত্রী সংসদকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট কতটি হয়রানিমূলক বা মিথ্যা মামলা হয়েছে, তার নির্ভুল সরকারি পরিসংখ্যান বর্তমানে সরকারের কাছে নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দলটির দাবি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সরকারের কাছে সংরক্ষিত নেই।
সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে দেশের বিচার বিভাগে জনবল পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে বিচারকদের জন্য অনুমোদিত মোট ২ হাজার ৬২০টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন।
আদালতে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে শূন্য পদগুলোতে নতুন বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, মামলার চাপ মোকাবিলায় সরকার নতুন করে ৬৫০টি দেওয়ানি বিচারক ও জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব আদালতের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নতুন বিচারক পদ সৃষ্টির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন এক লাখ ১৯ হাজারের বেশি মামলা:
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী দেশের পারিবারিক আদালতগুলোর বর্তমান মামলার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের পারিবারিক আদালতগুলোতে বিচারাধীন ও শুনানির অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৩০টি।
দাম্পত্য বিরোধ, পারিবারিক কলহ এবং সন্তানদের অভিভাবকত্বসংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশে ১৬৩টি পারিবারিক আদালত এবং আপিল শুনানির জন্য ৬৫টি পারিবারিক আপিল আদালত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সরকারের প্রত্যাশা, এসব আদালতের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত আইনি প্রতিকার পাবেন এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

