অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করা জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১৭ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল। সাম্প্রতিক সময়ে আইন অঙ্গনে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২২ জুন সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারা একসঙ্গে তাদের পদত্যাগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং তারিকুল ইসলাম।
অন্যদিকে পদত্যাগ করা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে রয়েছেন ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগকারী এসব আইন কর্মকর্তা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তারা দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের পক্ষে উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা এবং আইনি সহায়তার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তবে একযোগে পদত্যাগের পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে আইন অঙ্গনে পদত্যাগের কারণ ও এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একসঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন নিয়োগ বা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এ শূন্যতা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সরকারের প্রধান আইন উপদেষ্টার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক, প্রশাসনিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে এই কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে এই ধরনের পদত্যাগ সাধারণত আইন ও রাজনীতির অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়।
বর্তমানে পদত্যাগপত্রগুলো গ্রহণ ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। একযোগে ১৭ জন আইন কর্মকর্তার সরে দাঁড়ানো দেশের আইন প্রশাসনের সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

