মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পরিচালনার জন্য প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মাদ মহসিন রশীদ এ রিট দায়ের করেন।
রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে একই ধরনের একটি আইনি প্রশ্ন নিয়ে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মন্তব্য করেছিলেন যে, সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ কিংবা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইনটি সংবিধানের সুরক্ষা ভোগ করে এবং এ ধরনের চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত আবেদনও পূর্বে খারিজ হয়েছে। ফলে বিচারিক কার্যক্রম বিদ্যমান আইন অনুযায়ী চলবে।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনকে বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে কোনো সাংবিধানিক আদালতে এ আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না। একই সঙ্গে এই আইনের আওতায় বিচারাধীন কোনো ব্যক্তি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হাইকোর্ট বিভাগ বা অন্য কোনো সাংবিধানিক আদালতে আবেদন করার সুযোগ পান না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান একটি মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক অব্যাহতিপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। তাঁর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী ও আইনজীবী নাজনীন নাহার ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আবেদন করেছিলেন।
ওই আবেদনের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন যে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের নেই—এ মর্মে উত্থাপিত চ্যালেঞ্জ গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে আদালতে আইনি বিতর্কের ইতিহাসও রয়েছে। ২০১২ সালের ১৩ মে এ আইনের একটি সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের বিষয়ে হাইকোর্ট দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছিলেন। জনস্বার্থে চট্টগ্রামের আইনজীবী মোরশেদুর রহমান চৌধুরী ওই রিট আবেদন করেছিলেন।
সে সময় তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২) ধারার সংশোধনীর বিরুদ্ধে রিটটি করা হয়েছিল। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইনটি প্রথমে সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের সহায়ক বাহিনীর সদস্যদের বিচারের জন্য প্রণয়ন করা হলেও ২০০৯ সালে এতে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিচার করার বিধান যুক্ত করা হয়। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বিষয়ে এর আগে হাইকোর্টে দায়ের হওয়া আরও চারটি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।

