দেশের বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের মামলা জট কমানোর উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর এসেছে। বিশেষ কর্মসূচির আওতায় মাত্র চার কার্যদিবসে হাইকোর্ট বিভাগে ২০ হাজার ৭৪০টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বিচার প্রশাসনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ফৌজদারি ও রিট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষার সময় কমানোর পাশাপাশি আদালতের ওপর চাপও কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশনায় গত ৭ মে থেকে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বিশেষ শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট কমানো এবং বিচার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ কার্যক্রমের প্রথম দিনে হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে ৫ হাজারের বেশি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ কার্যক্রমের গতি বজায় রাখা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, চারটি পৃথক কার্যদিবসে মোট ১৫ হাজার ১৭২টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৫ হাজার ৫৬৮টি রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭৪০।
আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিচারব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মামলা জট। অনেক মামলার শুনানি বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক এই উদ্যোগ সেই সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত প্রতিকার পাবেন।
তিনি জানান, মামলা জট কমাতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দ্রুত নিষ্পত্তির উপযোগী প্রায় ১ হাজার ৪০০ মামলার একটি তালিকাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
বিচার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নতুন মামলা নিষ্পত্তি নয়, পুরোনো ঝুলে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত সমাধান বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘসূত্রতা কমে গেলে আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাও শক্তিশালী হয়।
তাদের মতে, বর্তমান উদ্যোগকে নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে মামলা জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার, বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপও সমানভাবে প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দেশের বিচারব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বহুদিন ধরে অপেক্ষমাণ বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

