যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বলতে মূলত এমন একটি সাংবিধানিক নীতিকে বোঝায়, যার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জন্মের সময়ই মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। এই নীতির প্রধান সাংবিধানিক ভিত্তি হলো আমেরিকার সংবিধান এর ১৪ তম সংশোধনী এর Citizenship Clause। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত এবং দেশটির আইনগত এখতিয়ারের অধীন প্রত্যেক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
এই দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতির ওপরই প্রশ্ন তোলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০ জানুয়ারি ২০২৫ এ তিনি এক্সিকিউটিভ অর্ডার নং ১৪১৬০ “Protecting the Meaning and Value of American Citizenship” জারি করেন। ওই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী কিছু শিশুকে বিশেষত যাদের মা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন অথবা সাময়িক ভিসায় ছিলেন এবং বাবা মার্কিন নাগরিক ছিলেন না জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের আওতার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তির মূল ভিত্তি ছিল Fourteenth Amendment-এর “subject to the jurisdiction thereof” শব্দবন্ধ। প্রশাসনের দাবি ছিল, অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সন্তানরা সাংবিধানিক অর্থে পুরোপুরি মার্কিন jurisdiction-এর অধীন নয়; ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করলেই তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার কথা নয়। অন্যদিকে, এই ব্যাখ্যার বিরোধীরা যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী শিশু সাধারণত মার্কিন আইনের পূর্ণ এখতিয়ারের অধীন এবং তার বাবা-মায়ের অভিবাসন-স্থিতি শিশুর নিজস্ব নাগরিকত্ব নির্ধারণের ভিত্তি হতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন এবং রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করার কথা জানিয়েছেন। তবে সুপ্রিম কোর্টে রিহিয়ারিং অত্যন্ত ব্যতিক্রমী বিষয় এবং কোনো রায়ের বিরুদ্ধে পুনঃশুনানির আবেদন করলেই আদালত তা গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি এর বাস্তব পদ্ধতিগত প্রসিজারও আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

