বিয়ের নিবন্ধন দলিলে বর ও কনের আগের ও বর্তমান বিয়ে এবং সন্তান সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এই নোটিশ পাঠান আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কাছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধিমালার আওতায় বর্তমানে ব্যবহৃত কাবিননামার নির্দিষ্ট ফরমটি অসম্পূর্ণ। এতে বর ও কনের পূর্ববর্তী কোনো বিয়ের তথ্য, সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিয়ে-তালাকের নিবন্ধন তথ্য, বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার তারিখ, চলমান কোনো বৈবাহিক মামলা কিংবা বিদ্যমান সন্তান সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ বা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
এই ঘাটতির কারণে কোনো ব্যক্তি চাইলে আগের একাধিক বিয়ে, বিদ্যমান বৈবাহিক সম্পর্ক, বিতর্কিত বা নিবন্ধনহীন তালাক, সন্তান কিংবা আগের পরিবারের প্রতি ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বের দায়িত্ব গোপন রেখেই নতুন বিয়ে করতে পারেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীর জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে কাবিননামা সংশোধন করে বর ও কনে উভয়ের জন্য সমান শর্তে প্রতিটি আগের ও বিদ্যমান বিয়ের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, বিয়ে-তালাকের তারিখ, স্থান ও নিবন্ধন নম্বর, বিচ্ছেদের পদ্ধতি ও তার কার্যকর হওয়ার তারিখ, এবং প্রয়োজনীয় দলিল বা মামলার তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সন্তান এবং তাদের ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনগত দায়দায়িত্ব সম্পর্কেও নির্দিষ্ট ঘোষণা রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যমান বিয়ে চলাকালে নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সালিশ পরিষদের লিখিত অনুমতির নম্বর ও তারিখ কাবিননামায় যুক্ত করার দাবিও তোলা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, বিয়ে-তালাকের নথি এবং প্রয়োজনে মৃত্যুসনদের মতো সংশ্লিষ্ট তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে যাচাইয়েরও দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে।
নোটিশে গত বছরের ডিসেম্বরে দেওয়া হাইকোর্টের একটি রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, ওই রায়ে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল করা এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড নিরাপদে সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে মূল কাবিননামা ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্যের সংস্থান না থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থাতেও কেবল অসম্পূর্ণ তথ্যই সংরক্ষিত হবে বলে নোটিশে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি মূল ফরমে প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং নিবন্ধকদের ওপর সুনির্দিষ্ট যাচাইয়ের দায়িত্ব আরোপ করা প্রয়োজন বলে মত দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ পাঠানো আইনজীবী বলেন, অসম্পূর্ণ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ কাবিননামার প্রচলিত ব্যবহার পারিবারিক জীবনে বাস্তব ক্ষতি সৃষ্টি করছে এবং তা আইনের আশ্রয় পাওয়া, মর্যাদা রক্ষা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

