বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের দেশে থাকা সম্পত্তি ও অধিকার নিয়ে আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসনে আলাদা ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের দাবি উঠেছে। প্রবাসীদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি দখল, দেশে ফেরার পর হয়রানি এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তারা ন্যায্য প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলে এ দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করে।
সংগঠনটির ভাষ্য, প্রবাসীরা বিদেশে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ দেশে পাঠান। এই বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আর্থিক ও সামাজিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রবাসী নিজেদের সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর আইনি সুরক্ষা পাচ্ছেন না।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশে অবস্থানকালে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মুখে পড়ার পাশাপাশি অনেক প্রবাসী নিজ এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাড়িঘর ও জমিজমা দখলের শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হলেও মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগায় অনেকেই দ্রুত প্রতিকার পাচ্ছেন না।
আইনি প্রতিকারের এই দীর্ঘসূত্রতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর প্রভাব পড়ছে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশেও। সংগঠনটির দাবি, সম্পত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও হয়রানির কারণে প্রবাসীদের একটি অংশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার দেশে থাকা সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন।
প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এই পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সংগঠনটি। তাদের মতে, প্রবাসীদের সম্পত্তি ও অন্যান্য আইনি অধিকার দ্রুত সুরক্ষিত করা না গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
এ অবস্থায় প্রবাসীদের সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধসহ তাদের বিভিন্ন আইনি জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত এই ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আইনমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় অ্যাডভোকেট মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী, এ এইচ ইমরুল কায়সার, মো. মাহবুবুল ইসলাম, রিপন বাঁড়ে, মো. মজিবুর রহমান, সৈয়দা শাহিন আরা লাইলি ও নাছরিন সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

