বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও করা আবেদন গ্রহণ করেননি আদালত।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন।
আহসান এইচ মনসুরের গভর্নর পদ থেকে অপসারণ এবং মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের বৈধতা প্রশ্ন তুলে গত ৫ মার্চ রিট আবেদন করেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন। আবেদনে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এ নিয়োগ ও অপসারণের প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল।
রিটে অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং নতুন নিয়োগ পাওয়া গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে বিবাদী করা হয়। আবেদনে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে আদালতের কাছে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি দুইটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদনও করা হয়।
রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন এর আগে দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট বিধান লঙ্ঘন করে আহসান এইচ মনসুরকে পদ থেকে সরানো হয়েছে। তার বক্তব্য ছিল, কোনো গভর্নর অযোগ্য বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম না হলে তাকে অপসারণের সুযোগ নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনগত বাধা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি এস আলম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলেও দাবি করা হয়।
২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার নেতৃত্বে দেশের ব্যাংক খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
তবে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে এবং মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।
হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে মোস্তাকুর রহমানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনের বৈধতা নিয়ে করা আইনি চ্যালেঞ্জের বর্তমান ধাপের অবসান হলো।

