চট্টগ্রামে অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে আটক ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নগরীর পশ্চিম খুলশী-জালালাবাদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে থাকা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে (সিটিইউ) ২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত উপপুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন)। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে কড়া পুলিশি প্রহরায় অভিযুক্ত ৬৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় তারা সবাই এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। গত রোববার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছিল, যার শুনানি শেষে আজ আদালত সিদ্ধান্ত দেন।
একই সময়ে আরেকটি সম্পর্কিত ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর নগরীর একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তিকে এই অনলাইন প্রতারণা মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ, সঙ্গে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে ওই ব্যক্তির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে— তিনিই তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে একটি আটতলা ভবন ভাড়া করে দিয়েছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে তিনি কুরিয়ারের মাধ্যমে ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে ১১৮ গ্রাম কোকেন পাঠিয়েছিলেন, যা পরে ফেরত আসে। সেই চালান ফেরত আসার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়েই পুলিশ প্রথম এই বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের খোঁজ পায়, যা পরবর্তীতে বড় এই অনলাইন প্রতারণা চক্রের সন্ধান দেয়।
চলমান তদন্তে বিদেশি নাগরিকদের প্রকৃত পরিচয়, তাদের প্রতারণার কার্যপ্রক্রিয়া এবং দেশে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

