ভোলা ৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়নের নির্বাচনী হলফনামায় ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন ওই আসনের এক ভোটার।
রিটে কথিত ভুয়া সনদের বিষয়টি তদন্তেরও আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রিটটি শুনানির জন্য উঠলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ শুনানি আজ নয় বলে পরবর্তী সময়ের জন্য রেখেছেন।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান আলভী। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যে সনদ নিয়ে অভিযোগ
রিটটি করেছেন ভোলা ৪ আসনের ভোটার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।
রিটে বলা হয়েছে, নুরুল ইসলাম নয়ন নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এমবিএ উল্লেখ করেছেন।
তিনি ইবাইস ইউনিভার্সিটির নামে একটি এমবিএ সনদও জমা দিয়েছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। সনদে ‘মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উইথ মেজর ইন ম্যানেজমেন্ট’, সিজিপিএ ৩.২৮ এবং নভেম্বর ২০০৮ তারিখ উল্লেখ রয়েছে।
রিটকারীর দাবি, ইবাইস ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, ওই সনদ তাদের দেওয়া নয়। সনদটি ভুয়া বলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কিছু তথ্য ও নথিও রিটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান রিটকারী।
ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ
রিটকারীর অভিযোগ, হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নুরুল ইসলাম নয়ন ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছেন।
রিটে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা ৪ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম নয়ন।
নির্বাচনী হলফনামায় তিনি ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি নেওয়ার তথ্য দেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার দাবিও
রিটে আরও বলা হয়েছে, নুরুল ইসলাম নয়ন বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের কথা বলে আসছেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন বলেও দাবি করেছেন।
তবে তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় ইবাইস ইউনিভার্সিটির এমবিএ সনদ দাখিলের বিষয়টি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।
হাইকোর্ট রিটটির পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করবেন।

